অবতক খবর,২১ মার্চ: তেহট্ট উপ সংশোধনাগারে এক বিচারাধীন বন্দির রহস্যমৃত্যুতে উত্তেজনা ছড়িয়েছে তেহট্ট মহকুমা হাসপাতালে। মৃত মেহের আলি দফাদার (৩৫) এর পরিবারের অভিযোগ, জেল কর্তৃপক্ষের হাতে তাকে খুন করা হয়েছে। অন্যদিকে, সংশোধনাগারের তরফে দাবি, শৌচালয়ে গামছার ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছিলেন মেহের। ময়নাতদন্তের রিপোর্টের ওপর নির্ভর করছে পরবর্তী পদক্ষেপ।
*ঘটনাক্রম:* গত ১২ মার্চ চুরির চেষ্টার অভিযোগে মেহেরকে গ্রেফতার করে তেহট্ট থানা পুলিশ। আদালত তাকে ১৪ দিনের জেল হেফাজতে রেখে ২৬ মার্চ পেশ করার নির্দেশ দেন। কিন্তু তার আগেই বৃহস্পতিবার ভোরে সংশোধনাগারের শৌচালয়ে গলায় গামছা দিয়ে ঝুলতে দেখা যায় মেহেরকে। বন্দিদের উদ্ধারের পর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
*পরিবারের অভিযোগ:* মেহেরের বাবা নিজাম দফাদার ও মা চপলা বিবির দাবি, “মেহের কখনও আত্মহত্যা করতে পারে না। শরীরে একাধিক আঘাত ও মুখে ঘুষির চিহ্ন দেখেছি। ওকে জেল কর্তৃপক্ষ মেরেছে।” মেহেরের স্ত্রী রাখি বিবি থানায় খুনের লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
*জেল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য:* সংশোধনাগারের জেলার অরুপ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “অন্য বন্দিরা মেহেরকে উদ্ধার করেছিল, তখনও প্রাণ ছিল। ঘটনা তদন্তে ম্যাজিস্ট্রেট নিযুক্ত রয়েছেন। ময়নাতদন্তের ফলেই স্পষ্ট হবে সবকিছু।”
*উত্তেজনা:* মৃত্যুর খবরে হাসপাতাল মর্গ চত্বরে জমায়েত হয় পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা। পুলিশের ব্যাপক মোতায়েনে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। মৃতদেশ শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
*পর্যবেক্ষণ:* এই মামলায় পুলিশি তদন্তের পাশাপাশি বিচারিক তদন্তের দাবি উঠেছে স্থানীয় মহল থেকে। মেহেরের পূর্বেও একাধিকবার জেল খাটার ইতিহাস রয়েছে বলে জানা গেছে।
*পরবর্তী পদক্ষেপ:* ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও তদন্তের ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে মামলার গতিপথ। উত্তপ্ত তেহট্টে শান্তি বজায় রাখতে পুলিশ সতর্ক।