অবতক খবর,১২ ফেব্রুয়ারিঃ গুড়াপ থানার খরুয়া গ্রামের বাসিন্দা খেদিবালা ভূমিজের বয়স প্রায় নব্বই। বাড়ি থেকে একদিন হঠাৎ বেরিয়ে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিলেন।তার ছেলে একেবারে প্রান্তিক মানুষ।মা নিখোঁজের পর কয়েক দিন খোঁজাখুঁজি করেন কিন্তু কোনো সন্ধান পাননা।
হুগলি সদর চুঁচুড়া শহরের ঘরির মোর, কোর্টের ধারে ভবঘুরের মত ঘোরাঘুরি করতেন যে যা দিত খেয়েছেন।আবার গাছতলায় শুয়ে পরেছেন বৃদ্ধা।দিন তিনেক আগে সন্ধায় আমরাতলা আবাসনে ঢুকে গাছের পাতা কুরিয়ে জরো করছিলেন।আবাসনের বাসিন্দা পুলিশ কর্মি সুকুমার উপাধ্যায় বৃদ্ধাকে দেখতে পান।তাকে ডেকে নাম ধাম জিজ্ঞাসা করেন।বৃদ্ধার কথাবার্তা কিছুটা অসংলগ্ন ছিল সেসময়,পোষাক ছিল অপরিষ্কার।আবাসনের অন্য বাসিন্দারা বৃদ্ধাকে খাবার দেন।রাতে শীত পোশাক চাদর দিয়ে থাকার ব্যবস্থা করেন।গতকাল তাকে ভালো করে সাবান দিয়ে স্নান করিয়ে দেন।বৃদ্ধার বাড়ি কোথায় কে কে আছে জিজ্ঞাসা করলে কখনো বলে বাঁকুড়া কখনো বলে বৈঁচি।সঠিক কোনো ঠিকানা পাওয়া যায়না।পুলিশ কর্মি সুকুমার বৃদ্ধার ছবি ফেসবুকে দিয়ে তার পরিবারের সন্ধান পেলে যোগাযোগ করতে বলেন।ধনিয়াখালীর এক ব্যক্তি যিনি চুঁচুড়া আদালতে কাজ করেন।তিনি ফেসবুকে বৃদ্ধার ছবি দেখে চিনতে পারেন।সুকুমারের সঙ্গে যোগাযোগ করে বৃদ্ধার বাড়ির ঠিকানা দেন।সুকুমার গুড়াপ থানায় তার এক সহকর্মিকে খোঁজ নিতে বলেন।সন্ধান মেলে বৃদ্ধার ছেলে সুরেনের।তার মাকে পাওয়া গেছে খবর দেওয়া হয় সুরেনকে।আজ চুঁচুড়ায় সেই আবাসন থেকে মাকে নিয়ে ২৩ নম্বর বাসে করে বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে যান ছেলে।আবাসনের বাসিন্দা তার মাকে যে ভাবে যত্ন করেছেন তার জন্য কৃতজ্ঞ সুরেন।পুলিশ কর্মিদের পরিবার যাওয়ার আগে বৃদ্ধাকে কিছু টাকা,খাবার,জামা কাপড় দিয়ে দেন।সুকুমার তার সহকর্মী বরুন ঘোষ সহ আবাসনের মানুষদের ব্যবহারে আপ্লুত বৃদ্ধাও।ছেলেকে অনেক দিন পর দেখে তার গায়ে মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলেন “আমার ছেলে”। মাকে পেয়ে সুরেনের তখন চোখের কোন চিক চিক করে ওঠে।